• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জিয়াকে নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক বাগেরহাটে আইজিপি’র পৈতৃক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি: এলাকায় চাঞ্চল্য রিকশা, ভ্যান ও অটো চালক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের উপদেষ্টা হলেন মোঃ ওয়াজিউল্লাহ শেখ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শরীফ উদ্দিন জুয়েলের শুভেচ্ছা কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান সমাজসেবক জাকির মৃধা ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে আইডিইবি-তে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল; আগে অস্বীকার করলেও এখন নিশ্চিত করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ মোসাদের জাল ও ট্রাফিক ক্যামেরা: যেভাবে খামেনিকে হত্যার পথ তৈরি হয় করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত অন্তত ৯ খামেনির বিদায়ে অনিশ্চিত ইরান: কার হাতে যাবে তেহরানের চাবিকাঠি?

সেই ১৫ রমজানের ভোরে নির্মম হত্যার শিকার ২৯ মুসল্লি, ৩২ বছর পরও কাটেনি রেশ

অনলাইন ডেস্ক / ২২৯ Time View
Update : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সেই ১৫ রমজানের ভোরে নির্মম হত্যার শিকার ২৯ মুসল্লি, ৩২ বছর পরও কাটেনি রেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে ১৯৯৪ সালের ১৫ রমজান ভোরে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেদিন ফজরের নামাজের সময় এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালালে ২৯ ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হন এবং ১২৫ জনের বেশি আহত হন। এই ঘটনা শুধু প্রাণহানি ঘটাননি, বরং মসজিদটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক চরিত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এখনও সেই শোকাবহ পরিবেশ রয়ে গেছে মসজিদে।

হামলার পর মসজিদটি টানা নয় মাস বন্ধ রাখা হয়। পরে ইসরায়েল একতরফাভাবে তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় স্থানটি মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করার। বর্তমানে নামাজের দুই-তৃতীয়াংশ স্থান ইহুদি উপাসকদের জন্য বরাদ্দ, বাকি অংশ মুসলমানদের জন্য। নির্দিষ্ট ইহুদি ধর্মীয় দিবসে মুসলমানদের পুরোপুরি প্রবেশে বাধা দেয়া হয়; বিপরীতে ইসলামি দিবসে মুসলমানদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকলেও তা সবসময় কার্যকর হয় না। সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইব্রাহিমি মসজিদ যা ‘পিতৃপুরুষদের সমাধিস্থল’ নামেও পরিচিত, এবং ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের কাছে সমান পবিত্র ইসলামী শাসনামলে মসজিদে রূপান্তরিত হয় এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী সেই মর্যাদা বহাল ছিল। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর ধীরে ধীরে সেখানে ইহুদি উপাসনার স্থান স্থাপন করা হয় এবং আশপাশে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতিও বাড়ে।

১৯৯৭ সালের হেবরন প্রটোকল অনুযায়ী শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়—এইচ১ (ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ) ও এইচ২ (ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ)। এইচ২ এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ও প্রায় ৭০০ বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন; তাদের নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সেনা। মসজিদে প্রবেশে কড়া তল্লাশি, একাধিক চেকপয়েন্ট এবং আজানের ওপর বিধিনিষেধ সব মিলিয়ে মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত ইবাদত কঠিন হয়ে উঠেছে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসনিক ও নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা ইসরায়েলের হাতে ন্যস্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা স্থানটির ইসলামি চরিত্রকে আরও সংকুচিত করতে পারে। রমজানে পানি ও খেজুর প্রবেশে বাধা, কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সাময়িক বহিষ্কার এসব অভিযোগও উঠেছে।

৩২ বছর পরও ইব্রাহিমি মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা এবং হাজারো মানুষের ক্ষোভ আজও প্রশমিত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, “এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়; আমাদের ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক অধিকারের প্রতীক।”

প্রবাহ নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd