
নিজস্ব প্রতিবেদক:- করাচি: ইরানি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের করাচি। রোববার সকালে করাচির মাই কোলাচি সড়কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট অভিমুখে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত: শনিবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। রোববার সকালে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী করাচির মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাও করতে জড়ো হন। এক পর্যায়ে তারা কনস্যুলেট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালান।
সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি দল কনস্যুলেট ভবনের জানালা ভাঙচুর করে এবং ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইধির বরাত দিয়ে ডন পত্রিকা জানিয়েছে, পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে।
সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, পুলিশ সার্জন ড. সুমাইয়া সাইদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ছয়টি মরদেহ সিভিল হাসপাতাল করাচিতে আনা হয়। পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।
সরকারের অবস্থান: সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লানজার এ ঘটনায় পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।” তিনি করাচিসহ পাকিস্তানের সমস্ত কূটনৈতিক ও সংবেদনশীল স্থাপনার নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সারাদেশে উত্তেজনা: খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুধু করাচি নয়, বরং রাজধানী ইসলামাবাদ ও লাহোরেও বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পুরো পাকিস্তানে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রবাহ নিউজ | করাচি প্রকাশিত: ১ মার্চ, ২০২৬