
প্রবাহ নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরীফ হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রায় আড়াই মাস আগে বাংলাদেশের ডিএমপি পুলিশ আসামিদের ভারতে অবস্থানের দাবি করলেও সে সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছিল। অবশেষে রোববার ভারতের এসটিএফ-এর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই তাদের গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেল।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ফয়সাল ও আলমগীর: এসটিএফ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং আলমগীর হোসেনকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ভারতের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার পর পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা বনগাঁ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
পুরানো বিতর্ক ও ডিএমপির দাবি: গত ২৮ ডিসেম্বর ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল যে, ফয়সাল ও আলমগীর হত্যাকাণ্ডের পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। তবে এর দুই ঘণ্টা পরই মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছিল, ফয়সাল তাদের দেশে নেই। সেই সময় ফয়সাল নিজেও ভিডিও বার্তায় দুবাইয়ে আছেন বলে দাবি করেছিলেন এবং ভিসার ছবি দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এসটিএফ-এর বর্তমান তথ্য প্রমাণ করল যে, ডিএমপির গোয়েন্দা তথ্যই সঠিক ছিল।
হাদি হত্যাকাণ্ড ও দেশজুড়ে ক্ষোভ: গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে ফয়সাল ও আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছিল। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর ভারতবিরোধী বিক্ষোভ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের শীতলতা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি: গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে রোববার ভারতীয় আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।
ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচারে নতুন মোড় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।