• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
জিয়াকে নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক বাগেরহাটে আইজিপি’র পৈতৃক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি: এলাকায় চাঞ্চল্য রিকশা, ভ্যান ও অটো চালক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের উপদেষ্টা হলেন মোঃ ওয়াজিউল্লাহ শেখ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শরীফ উদ্দিন জুয়েলের শুভেচ্ছা কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান সমাজসেবক জাকির মৃধা ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে আইডিইবি-তে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল; আগে অস্বীকার করলেও এখন নিশ্চিত করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ মোসাদের জাল ও ট্রাফিক ক্যামেরা: যেভাবে খামেনিকে হত্যার পথ তৈরি হয় করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত অন্তত ৯ খামেনির বিদায়ে অনিশ্চিত ইরান: কার হাতে যাবে তেহরানের চাবিকাঠি?

মোসাদের জাল ও ট্রাফিক ক্যামেরা: যেভাবে খামেনিকে হত্যার পথ তৈরি হয়

Reporter Name / ৩৯৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রবাহ নিউজঃ- তেহরানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পাস্তুর স্ট্রিট। যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকদের আনাগোনা। কিন্তু সেই সুরক্ষিত এলাকার প্রতিটি ট্রাফিক ক্যামেরা বছরের পর বছর ধরে ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণে। ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে প্রযুক্তি, গুপ্তচর আর নিখুঁত পরিকল্পনার সমন্বয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার চূড়ান্ত ছক সাজিয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাফিক ক্যামেরায় ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’:-

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা দীর্ঘ সময় ধরে হ্যাক করে রেখেছিল ইসরায়েল। এর মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের দপ্তরে যাওয়া-আসার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হতো। জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নিরাপত্তারক্ষীদের ঠিকানা, ডিউটির সময় এবং যাতায়াতের পথ বিশ্লেষণ করত গোয়েন্দারা। একে তারা বলতেন ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’। বিশেষ করে খামেনির নিরাপত্তা ও পরিবহন সেবায় কারা নিয়োজিত থাকতেন, সেই তথ্যও বের করে ফেলেছিল মোসাদ।

সিআইএ ও মোসাদের যৌথ অপারেশন:-

গত শনিবার সকালে খামেনি ঠিক কখন কার্যালয়ে থাকবেন এবং তার সঙ্গে কারা যোগ দেবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক ডেটা ব্যবহার করা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সিআইএ-র এই অভিযানে বড় ভূমিকা রেখেছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ‘ইউনিট ৮২০০’।

হামলার ঠিক আগে পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশের মোবাইল টাওয়ারগুলো অচল করে দেওয়া হয়, যাতে খামেনির নিরাপত্তা দল কোনো সতর্কবার্তা আদান-প্রদান করতে না পারে। ইসরায়েলি পাইলটরা এই অভিযানে ‘স্প্যারো’ নামক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেন, যা ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকে ডাইনিং টেবিলের সমান লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

‘ভেতরের মানুষ’ ও ট্রাম্পের নির্দেশ:-

কেবল প্রযুক্তি নয়, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে এমন একজন ‘সোর্স’ বা তথ্যদাতা ছিল, যিনি খামেনির একদম ভেতরকার খবর সরবরাহ করছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, সাইবার হামলার মাধ্যমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে অকেজো করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশপথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

নাশতার টেবিলেই হামলা:-

আইডিএফ-এর তথ্যমতে, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয় এবং ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, যখন হামলা হয়, তখন ইরানি কর্মকর্তারা সকালের নাশতার টেবিলে বসেছিলেন।

খামেনি সবসময় বলতেন, দেশের ভবিষ্যতের তুলনায় তার জীবন তুচ্ছ। গত শনিবার সেই পাস্তুর স্ট্রিট কম্পাউন্ডেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। পরদিন রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কালো ব্যানারে খামেনির ছবি প্রচার করে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

 

 

 

 

 

 

 


প্রবাহ নিউজ: সত্যের সন্ধানে সব সময়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd