গাড়িতে ভ্রমণের সময় অনেকেই মাথাঘোরা, অস্থিরতা কিংবা বমি বমি ভাবের সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় মোশন সিকনেস। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ, কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়।
কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজ—সব ধরনের যানবাহনে ভ্রমণের সময়ই মোশন সিকনেস হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি বা উঁচুনিচু রাস্তায় এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
ভারতের দিল্লির Sir Ganga Ram Hospital–এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালী জানান, ভ্রমণের সময় চোখ ও কানের ভেতরের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্কে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পাঠায়।
তিনি বলেন, “গাড়িতে বসে যদি কেউ বই পড়েন বা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে চোখ মনে করে শরীর স্থির আছে। কিন্তু কানের ভেতরের ব্যালেন্স সিস্টেম বুঝতে পারে শরীর চলমান। এই দ্বন্দ্ব থেকেই বমি বমি ভাব তৈরি হয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকেতের অমিলের ফলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং শরীর বমির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়।
All India Institute of Medical Sciences–এর নিউরোলজি বিভাগের ডা. মানজারি ত্রিপাঠি বলেন, কানের ভেতরে থাকা ভেস্টিবুলার সিস্টেম শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। চোখ ও শরীরের অন্যান্য রিসেপটর থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এটি না মিললে মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয়, ফলে মাথাঘোরা ও বমি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোশন সিকনেসে কে কখন ভুগবেন তা আগে থেকে বলা কঠিন। তবে নারীরা তুলনামূলক বেশি ভোগেন।
এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়:…
তুলনামূলক নিম্ন রক্তচাপ
হরমোনের পরিবর্তন
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন
মাসিকের সময় শরীরে লবণ ও পানির ভারসাম্য পরিবর্তনের কারণেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকেরা ভ্রমণের আগে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। খালি পেটে বা অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে ভ্রমণ করলে বমির প্রবণতা বাড়তে পারে।
এছাড়া:…
চলন্ত গাড়িতে বই বা মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলা
সামনের সিটে বসা
জানালা দিয়ে দূরে তাকানো
শরীর স্থির রাখা
প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন
এসব উপায় অনুসরণ করলে সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ঘন ঘন বমি হলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার উপসর্গও হতে পারে।
— প্রবাহ নিউজ