অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সম্প্রতি এক আলোচনায় জানালেন, কন্যাসন্তান জন্মের পরের সময়টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় মেয়েকে রাখতে হয়েছিল নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে। সেই দুঃসময়ের মধ্যেই তাকে সন্তানের জন্মের খবর প্রকাশ্যে আনতে হয়েছিল, অনিচ্ছাসত্ত্বেও।
মার্কিন পপ তারকা ও প্রিয়াঙ্কার সংসারে ২০২২ সালে কন্যাসন্তানের আগমন ঘটে। সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেন তাদের কন্যা, মালতী মেরি চোপড়া জোনাস। তবে জন্মের পরই মালতী চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা বলেন, তিনি ও নিক তখন হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যেই ছিলেন। হঠাৎ একটি বার্তা পান, তিন ঘণ্টার মধ্যে তারা যদি নিজেরা সন্তানের জন্মের ঘোষণা না দেন, সংবাদমাধ্যম তা প্রকাশ করে দেবে। প্রিয়াঙ্কা জানালেন, তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না এবং মেয়ের শারীরিক অবস্থাও অনিশ্চিত ছিল।
মেয়ের প্রথম কান্নার কথা মনে করে প্রিয়াঙ্কা জানান, সেটি ছিল খুব ক্ষীণ, বিড়ালছানার মতো শব্দ। তবুও তাদের জন্য তা আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় তিন মাস মালতী নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে ছিলেন। এই সময় প্রিয়াঙ্কা ও নিক প্রতিদিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিক মেয়ের জন্য গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন, আর তিনি মৃদুস্বরে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতেন। তিনি আরও জানান, বহু মানুষ তাদের মেয়ের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। মালতী অত্যন্ত আদরের এবং বহু প্রতীক্ষিত সন্তান।
প্রসঙ্গত, রাজস্থানে খ্রিস্টান ও হিন্দু দুই ধর্মীয় রীতিতেই বিয়ে করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। একসময় সামাজিক মাধ্যমে মেয়ের ছবি ভাগ করলেও বর্তমানে তারা ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালেই রেখেছেন। বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা হলিউড ও বলিউডে সমান তালে কাজ করছেন। রাজা মৌলির আসন্ন সিনেমা ‘বারাণসী’-তেও তাকে দেখা যাবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস